দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে গত ৪৮ ঘণ্টায় কাতার, সৌদি আরব, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার ও বন্দর স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইরান বলে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব হামলা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরানি অবকাঠামোর ওপর আঘাত এলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আঞ্চলিক মিত্রদেরও মূল্য দিতে হবে এমন বার্তা দিতে চাইছে তেহরান।
রয়টার্স ও আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতারের রাস লাফান শিল্পাঞ্চল, সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর, কুয়েতের মিনা আল আহমাদি ও মিনা আবদুল্লাহ তেল স্থাপনা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের কিছু জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার চেষ্টা চালানো হয়। উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ হামলা প্রতিহত করেছে বলে সরকারি সূত্র জানিয়েছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও এএফপি জানায়, সংঘাতের ২১তম দিনে এসে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জোট ও উপসাগরীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রায় ১১০০ থেকে ১৩০০টি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গড় প্রতিরক্ষা সফলতার হার বিবেচনায় মোট উৎক্ষেপণের সংখ্যা ৩০০০ থেকে ৫০০০ এর মধ্যে হতে পারে।
এই সংখ্যা যুদ্ধের আগে পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর অনুমানের তুলনায় অনেক বেশি। পূর্ববর্তী মূল্যায়নে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার প্রায় ২৫০০ বলে ধারণা করা হয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তব সংখ্যা বেশি হওয়ার পেছনে গোপন উৎপাদন সক্ষমতা অথবা ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক কামিকাজে ড্রোন ব্যবহারের বিষয়টি ভূমিকা রাখতে পারে।
কিছু প্রতিরক্ষা বিশ্লেষণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের তথাকথিত ‘মিসাইল সিটি’ নামে পরিচিত ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোতে স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন লাইন সক্রিয় থাকতে পারে, যেগুলো এখনো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েনি।
জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা আঞ্চলিক সংঘাতকে সরাসরি বৈশ্বিক অর্থনীতির ঝুঁকিতে ঠেলে দেয়। ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে গোয়েন্দা অনুমান ভুল প্রমাণিত হলে ভবিষ্যৎ সামরিক পরিকল্পনাও বড়ভাবে প্রভাবিত হতে পারে।
