লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

শিল্পগোষ্ঠীর কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগে এমপিপুত্র আটক, যুবদল থেকে বহিষ্কার

প্রকাশিত: 22 জুন 2026

0 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

নারায়ণগঞ্জে একটি শীর্ষ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগে আলোচনায় উঠে এসেছেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে খাইরুল ইসলাম সজীব। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একই সঙ্গে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অনিয়মের অভিযোগে তাকে যুবদল থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সরকারের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের নির্দেশে রোববার রাজধানী থেকে খাইরুল ইসলামকে হেফাজতে নেয় নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ। পরে তাকে জেলা গোয়েন্দা শাখার কার্যালয়ে নেওয়া হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে অধিকতর তদন্তের জন্য তাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।

পুলিশ সদর দপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, খাইরুল ইসলামের বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগ যাচাই এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, দেশের একটি বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর কাছে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ দাবি করেছিলেন খাইরুল ইসলাম। অভিযোগ রয়েছে, দাবি অনুযায়ী অর্থ না দেওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির একটি গাড়ি আটকে রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে সরকারি পর্যায়ের হস্তক্ষেপের পর সেটি ছেড়ে দেওয়া হয়।

স্থানীয় শিল্পকারখানা মালিকদের কয়েকজন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রগুলো আরও দাবি করেছে, সিদ্ধিরগঞ্জ, সোনারগাঁ ও কাঁচপুর শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন কারখানা থেকে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। নির্ধারিত অর্থ না পেলে পণ্যবাহী যানবাহন আটকে রাখা, ব্যবসায়িক কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার এবং স্থানীয় বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও তদন্তকারীদের নজরে এসেছে বলে জানা গেছে।

এদিকে খাইরুল ইসলামকে আটক করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কেন্দ্রীয় যুবদল তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। সংগঠনের দপ্তর শাখা থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তার বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগ এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, খাইরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের কর্মকর্তারাও নিশ্চিত করেছেন যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে প্রথমে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে তদন্তের স্বার্থে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।

ঘটনাটি রাজনৈতিক অঙ্গন এবং শিল্পমহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে অভিযোগগুলোর পরবর্তী আইনগত পরিণতি।

 

সূত্রঃ প্রথম আলো

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman