দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও বড় অঘটনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল সৌদি আরব। দক্ষিণ আমেরিকার শক্তিশালী দল উরুগুয়ের বিপক্ষে দুর্দান্ত লড়াই করে শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের ড্র আদায় করেছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিনিধিরা। মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে দীর্ঘ সময় এগিয়ে থেকেও জয় হাতছাড়া হলেও সৌদি আরবের পারফরম্যান্স মুগ্ধ করেছে ফুটবল বিশ্বকে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে উরুগুয়ে। ফেদেরিকো ভালভার্দে, মাক্সিমিলিয়ানো আরাউহো এবং তার সতীর্থরা একের পর এক আক্রমণ চালালেও সৌদি গোলরক্ষক মোহাম্মদ আল ওয়াইস ছিলেন দুর্ভেদ্য প্রাচীর। পুরো ম্যাচে তিনি একাধিক নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করে দেন এবং বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত অন্যতম সেরা গোলকিপিং প্রদর্শন করেন।
প্রথমার্ধের ৪১তম মিনিটে স্টেডিয়ামে নীরবতা নামিয়ে আনে সৌদি আরব। কর্নার থেকে আসা বলে প্রথমে উরুগুয়ের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরা সেভ করলেও ফিরতি বলে আবদুলেলাহ আল আমরি জোরালো শটে বল জালে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন। গোলের পর সৌদি সমর্থকদের উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে গ্যালারি।
গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে উরুগুয়ে। দ্বিতীয়ার্ধজুড়ে তারা ধারাবাহিক আক্রমণ চালায়। পরিসংখ্যানও ছিল তাদের পক্ষে। পুরো ম্যাচে ২৭টি শট নেয় দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। তবে সৌদি রক্ষণভাগ এবং গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় বারবার ব্যর্থ হয় তারা।
অবশেষে ৮০তম মিনিটে সমতা ফেরায় উরুগুয়ে। ফেদেরিকো ভিনাসের হেড প্রথমে ঠেকিয়ে দেন আল ওয়াইস। কিন্তু ফিরতি বলে মাক্সিমিলিয়ানো আরাউহোর শক্তিশালী শট আর রুখতে পারেননি তিনি। সেই গোলে পরাজয়ের শঙ্কা থেকে রক্ষা পায় উরুগুয়ে।
যদিও ম্যাচ শেষে ড্রয়ের ফলাফল উরুগুয়েকে স্বস্তি দিলেও সৌদি আরবের শিবিরে ছিল মিশ্র অনুভূতি। কারণ ম্যাচের বড় একটি সময় এগিয়ে থাকা দলটি জয় থেকে মাত্র কয়েক মিনিট দূরে ছিল। তবুও দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের বিপক্ষে পয়েন্ট অর্জনকে বড় সাফল্য হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।
ম্যাচটি আরও একবার প্রমাণ করেছে যে, বর্তমান বিশ্বকাপে কোনো দলকেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। এর আগে স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দেয় কেপ ভার্দে এবং বেলজিয়ামের বিপক্ষে মূল্যবান পয়েন্ট কুড়িয়ে নেয় মিসর। সেই ধারাবাহিকতায় এবার উরুগুয়েকে চাপে ফেলে আলোচনায় উঠে এসেছে সৌদি আরব।
এই ড্রয়ের ফলে ‘এইচ’ গ্রুপে চারটি দলেরই সংগ্রহ এখন এক পয়েন্ট। ফলে দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার লড়াই আরও জমে উঠেছে। ১৯৯৪ সালের পর আবারও বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব পেরোনোর স্বপ্ন দেখছে সৌদি আরব। কাকতালীয়ভাবে সেই আসরের মতো এবারও বিশ্বকাপের আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র।
বিশ্বকাপের শুরুতেই এশিয়ার দলগুলোর ধারাবাহিক সাফল্যও নজর কাড়ছে। এখন পর্যন্ত এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের দলগুলো কোনো ম্যাচ হারেনি। দুই জয় এবং তিন ড্র নিয়ে তারা নিজেদের শক্ত অবস্থানের প্রমাণ দিচ্ছে বিশ্বমঞ্চে।
