দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ইরানের সঙ্গে নতুন শান্তি চুক্তির আওতায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে কোনো টোল আরোপ করা হবে না বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে একই সঙ্গে ওয়াশিংটন স্পষ্ট করেছে, চুক্তির আওতায় প্রতিশ্রুত অর্থনৈতিক সুবিধা পেতে হলে তেহরানকে আগে সব শর্ত ও অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে হবে।
মার্কিন প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানের পুনর্গঠনের জন্য প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি সম্ভাব্য তহবিল গঠনের বিষয়েও আলোচনা চলছে। তবে এই অর্থ এককালীন ছাড় করা হবে না। চুক্তি বাস্তবায়নে ইরানের অগ্রগতি, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ এবং যাচাই প্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই ধাপে ধাপে অর্থ ছাড় করা হতে পারে।
রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভেন্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ ইলেকট্রনিকভাবে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান চলতি সপ্তাহে জেনেভা শহরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চুক্তির লক্ষ্য হচ্ছে সাম্প্রতিক সংঘাতের অবসান ঘটানো, হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য একটি কাঠামো তৈরি করা। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালী দিয়ে বৈশ্বিক তেল পরিবহনের একটি বড় অংশ সম্পন্ন হয়।
তবে চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো জটিল বিষয়গুলো এখনো চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়নি। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, বর্তমান সমঝোতা স্মারকটি একটি প্রাথমিক কাঠামো মাত্র। পারমাণবিক কর্মসূচি, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে পরবর্তী ধাপে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স জানান, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞদের ইরানে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে, যাতে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ধ্বংস এবং যাচাই কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও এখনও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী পরিচালনার দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের গতি এবং পারমাণবিক আলোচনার ফলাফলই নির্ধারণ করবে চুক্তির ভবিষ্যৎ সফলতা।
সূত্রঃ রয়টার্স
