লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি ধ্বস: বাংলাদেশ-সৌদি মুখ ফিরিয়েছে

প্রকাশিত: 28 নভেম্বর 2025

111 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক ।

ভারতের পেঁয়াজ বাজার এখন গভীর সংকটে। বাংলাদেশ ও সৌদি আরব দেশ দুটি একসময় ভারতীয় পেঁয়াজের সিংহভাগের আমদানিকারক, তারা এখন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। বাংলাদেশ পেঁয়াজ আমদানি করছে পাকিস্তান ও মিসর থেকে, আর সৌদি আরব আমদানি করছে পাকিস্তান, চীন ও মিসর থেকে। ফলে ভারতীয় চাষি ও রপ্তানিকারকরা এখন হতাশা আর লোকসানের মুখে।

ইকোনোমিক টাইমসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বিপর্যয়ের জন্য ভারতের নিজের নীতিই দায়ী। বারবার রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা আর অনিশ্চয়তার কারণে ক্রেতা দেশগুলো বিকল্প সরবরাহকারী খুঁজে নিয়েছে।

– ২০১৯-২০২০ সালে ভারত দু’দফায় মোট ১১ মাস পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ রাখে।
– ২০২৩-এ আবার ৮ ডিসেম্বর থেকে মে ২০২৪ পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা।
– এই সময়ে বাংলাদেশ, সৌদি, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইনের মতো দেশগুলো পাকিস্তান, চীন, মিসর, তুরস্কের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

সৌদি আরব গত এক বছরে ভারত থেকে প্রায় শূন্য পেঁয়াজ আমদানি করেছে।

যে কারণে ক্রেতারা মুখ ফিরিয়েছে :
১. রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার অনিশ্চয়তা
২. ভারতীয় পেঁয়াজের বীজ অবৈধভাবে ছড়িয়ে পড়ায় পাকিস্তান, মিসর, তুরস্ক নিজেরাই উৎপাদন বাড়িয়েছে
৩. পাকিস্তানি ও চীনা পেঁয়াজের দাম ভারতের চেয়ে ২০-৩০% কম
৪. পেঁয়াজের মানের চেয়ে দাম এখন ক্রেতাদের কাছে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে

রপ্তানিকারক অজিত শাহ বলেন, “আমরা যখন বাজারে থাকি না, তখন ক্রেতারা অন্যদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ফেলে। এখন তারা ফিরে আসতে চায় না।”

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বোর্ড অব ট্রেডের সদস্য পাশা প্যাটেল বলেন, “আমরা শুধু ঐতিহ্যগত ক্রেতা হারাইনি, তারা এখন আমাদের বীজ দিয়েই নিজেরা উৎপাদন করছে। এটা দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি।”

মহারাষ্ট্র, কর্নাটক, গুজরাটের পেঁয়াজ চাষিরা এখন বড় লোকসানে। নাসিকের পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজি ৮-১২ রুপি পর্যন্ত নেমেছে। অনেকে ফসল জমি থেকে না তুলে, মাটিতেই ফেলে দিচ্ছেন।

বাংলাদেশ সরকার ২০২০ সাল থেকেই ভারতের ওপর নির্ভরতা কমাতে শুরু করে। পাকিস্তান, মিসর ও তুরস্কের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি হয়েছে। বর্তমানে দেশে পেঁয়াজের দাম কেজি ৯০-১১০ টাকা, যা এখনো বেশি, কিন্তু ভারতের তুলনায় বিকল্প থেকে স্থিতিশীল সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে।

ভারতের রপ্তানি নীতিতে স্থিতিশীলতা না থাকায় তারা দীর্ঘমেয়াদি বাজার হারাতে বসেছে। এখন ভারত যতই রপ্তানি ছাড় করুক, পুরোনো ক্রেতারা আর ফিরে আসছে না।

 

সূত্র: The Economic Times, Reuters, Business Standard, All India Radio,

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman