দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত আরও বিস্তৃত ও দীর্ঘস্থায়ী হলে ইসরায়েল রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকার সক্ষমতা হারাতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার লেফটেন্যান্ট জেনারেল আপতি আলাউদিনভ। রুশ বার্তা সংস্থা তাসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, সংঘাতকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোটকে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানো ইসরায়েলের অন্যতম লক্ষ্য হতে পারে। তবে এটি তার ব্যক্তিগত মূল্যায়ন, রাশিয়া সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয়।
আলাউদিনভ রুশ সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান সামরিক রাজনৈতিক বিভাগের উপপ্রধান। একই সঙ্গে তিনি আখমাত বিশেষ বাহিনীর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম। বরং সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কাই বেশি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল সংঘাতের পরিসর বাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি ন্যাটো জোটের অন্যান্য দেশকেও যুদ্ধে টেনে আনার চেষ্টা করছে। আলাউদিনভের দাবি, ইসরায়েল এ ধরনের কৌশল প্রয়োগে সফল হলেও নিজেদের সামরিক সক্ষমতাকে অতিরিক্ত মূল্যায়ন করলে পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এর পরিণতিতে ইসরায়েল রাষ্ট্র হিসেবেই অস্তিত্ব হারানোর পরিস্থিতিতে পড়তে পারে।

রুশ এই সামরিক কর্মকর্তার মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত নতুন করে উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধ থামানো ও সমঝোতার উদ্যোগ বারবার ভেস্তে যাওয়ার পাশাপাশি সামরিক হামলার আশঙ্কাও ফিরে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২ আগস্ট ইরানে বড় ধরনের নতুন হামলা স্থগিত করার কথা জানিয়েছিলেন। সে সময় তিনি দাবি করেছিলেন, একটি সম্ভাব্য সমঝোতার কাঠামো নিয়ে অগ্রগতি হয়েছে এবং ইরানের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ তৈরি করতেই হামলা স্থগিত করা হয়েছে।
তবে সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা স্থায়ী অগ্রগতি আনতে পারেনি। ১৭ আগস্ট ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে নতুন কোনো আলোচনা নির্ধারিত নেই। একই সময়ে ইরান জানায়, যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার অবস্থান থেকে তারা সরে আসবে না।
এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কেবল ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অচলাবস্থা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের ওপরও চাপ বাড়িয়েছে। মার্কিন ও ইরানি অবস্থানের পাশাপাশি ইসরায়েল, উপসাগরীয় দেশগুলো এবং বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারী দেশের ভূমিকা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
আলাউদিনভের বক্তব্য অবশ্য কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থার পূর্বাভাস বা স্বীকৃত সামরিক মূল্যায়ন নয়। এটি তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষণ। ফলে ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় অস্তিত্ব বিলীন হওয়ার সম্ভাবনাকে নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তবে তার মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কতটা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং বৃহৎ শক্তিগুলো সরাসরি জড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি কতটা অনিশ্চিত হতে পারে, সেই বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে।
