দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ডেঙ্গুর সংক্রমণ দ্রুত বাড়তে থাকায় আগামীকাল শনিবার থেকে সারাদেশে শুরু হচ্ছে তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সকাল ৯টায় এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।
সরকারের তথ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, জনসচেতনতা বাড়ানো এবং ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে দেশব্যাপী এই অভিযান পরিচালিত হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি সরকারি সম্প্রচারমাধ্যমের পাশাপাশি দেশের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে সরাসরি সম্প্রচারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ডেঙ্গুর সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এই উদ্যোগের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। রয়টার্সের ৭ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, চলতি বছর সেপ্টেম্বরের শুরু পর্যন্ত দেশে ৪২ হাজার ৫৯০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ১১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুধু এক দিনেই ১ হাজার ৫৫৮ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন এবং চারজন মারা যান। ওই দিনটিই ছিল চলতি বছরে এক দিনে সর্বোচ্চ রোগী ভর্তির ঘটনা।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে। উষ্ণতা, বৃষ্টিপাত ও অনুকূল পরিবেশ এডিস মশার বিস্তারের জন্য সহায়ক হওয়ায় সংক্রমণ অক্টোবর পর্যন্ত অব্যাহত থাকার ঝুঁকি রয়েছে। হাসপাতালগুলোতেও রোগীর চাপ বাড়ছে বলে আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বাংলাদেশে ডেঙ্গু মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দিয়েছে। সংস্থাটির সাম্প্রতিক আলোচনায় স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় সরকার, উন্নয়ন সহযোগী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনগণের সমন্বিত অংশগ্রহণকে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি রোগ শনাক্তকরণ, নজরদারি, জনসচেতনতা এবং আক্রান্তদের যথাযথ চিকিৎসা একসঙ্গে চালানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, এডিস মশা সাধারণত মানুষের বসতবাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। ফেলে রাখা প্লাস্টিকের পাত্র, বোতল, টায়ার, ফুলের টবের নিচের পাত্র, নির্মাণস্থলের পানি, ছাদ ও নর্দমায় জমে থাকা পানি মশার প্রজননস্থল হয়ে উঠতে পারে। তাই নিয়মিত এসব স্থান পরিষ্কার করা এবং পানি জমতে না দেওয়া ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আরও জানিয়েছে, ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা দিনের বেলাতেও কামড়ায়। বিশেষ করে সকাল ও সন্ধ্যার আগে এর কামড়ের প্রবণতা বেশি। ফলে শুধু রাতে মশারি ব্যবহার নয়, দিনের বেলাতেও মশার কামড় থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
বাংলাদেশে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এর আগে বিভিন্ন পর্যায়ে মশা নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হলেও চলতি বছরের সংক্রমণ পরিস্থিতি দেখাচ্ছে যে বিচ্ছিন্ন অভিযান যথেষ্ট নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাম্প্রতিক পরামর্শেও তথ্যভিত্তিক নজরদারি, প্রজননস্থল ধ্বংস এবং স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের অংশগ্রহণকে দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের মূল উপাদান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তিন মাসব্যাপী নতুন এই অভিযানে তাই শুধু সরকারি সংস্থার কার্যক্রম নয়, বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মশার প্রজননস্থল যত দ্রুত এবং ধারাবাহিকভাবে ধ্বংস করা যাবে, ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণের সম্ভাবনাও তত বাড়বে।
