দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
শেষ সেশনে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল আরও ৭ উইকেট। ম্যাচ তখনও দুই দলের নাগালের মধ্যেই। ঠিক সেই মুহূর্তে আগুন ঝরানো স্পেল উপহার দিলেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা। তার দুর্দান্ত বোলিংয়েই পাকিস্তানকে গুঁড়িয়ে দিয়ে স্মরণীয় জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।
মাত্র ৪.৫ ওভারে ১০ রান খরচায় ৪ উইকেট শিকার করেন নাহিদ। পুরো ম্যাচে দ্বিতীয় ইনিংসে ৪০ রানে ৫ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ একাই ধসিয়ে দেন এই গতিময় পেসার। প্রথম ইনিংসে কিছুটা খরুচে বোলিং করলেও দ্বিতীয় ইনিংসে নিজের সামর্থ্যের পুরোটা দেখিয়েছেন তিনি।
এই জয়ে চলতি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে প্রথমবারের মতো জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ।
তবে এই জয়ের পেছনে অবদান রয়েছে দলের একাধিক ক্রিকেটারের। ব্যাট হাতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। প্রথম ইনিংসে দারুণ একটি সেঞ্চুরির পর দ্বিতীয় ইনিংসেও খেলেছেন গুরুত্বপূর্ণ ৮৭ রানের ইনিংস।
অভিজ্ঞ ব্যাটার মুমিনুল হক দুই ইনিংসেই পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস খেলেছেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে ৫ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। মিডল অর্ডারে গুরুত্বপূর্ণ রান এসেছে মুশফিকুর রহিমের ব্যাট থেকেও।
বল হাতে প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানকে চাপে ফেলেছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। পুরো ম্যাচজুড়েই নিয়ন্ত্রিত ও আক্রমণাত্মক বোলিং করেছেন তাসকিন আহমেদ।
তবে শেষ পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি বাংলাদেশের দিকে এনে দেন নাহিদ রানা। তার গতিময় বোলিং, আগ্রাসী লাইন ও ধারাবাহিক আক্রমণাত্মক মানসিকতা পাকিস্তানের ব্যাটিংকে পুরোপুরি ভেঙে দেয়।
দীর্ঘদিন পর টেস্ট ক্রিকেটে এমন পূর্ণাঙ্গ দলীয় পারফরম্যান্সে স্বস্তি ও আত্মবিশ্বাস ফিরে পেল বাংলাদেশ শিবির।
