দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের পরবর্তী পরিস্থিতি এবং যুদ্ধ শেষে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে এই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, আগামী মঙ্গলবার ট্রাম্পের সঙ্গে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিদের বৈঠক হতে পারে। বৈঠকে যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় ওয়াশিংটনের পরিকল্পনার প্রাথমিক রূপরেখা তুলে ধরা হতে পারে।
সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও ওমানের নেতারা অথবা তাঁদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এতে অংশ নিতে পারেন। এ ছাড়া আরও কয়েকটি আরব ও মুসলিম দেশের প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়েও আলোচনা রয়েছে বলে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে।
বৈঠকের আমন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউস ও পররাষ্ট্র দপ্তর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
যুদ্ধ শেষের ইঙ্গিত ট্রাম্পের
উপসাগরীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের খবরের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। বুধবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আশা করছেন যুদ্ধ শেষ পর্যায়ের দিকে এগোচ্ছে।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী। তবে কী ধরনের যোগাযোগ হয়েছে বা সম্ভাব্য চুক্তির শর্ত কী হতে পারে সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি। ইরানের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে এমন যোগাযোগের বিষয়ে বিস্তারিত নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
এদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও নিউইয়র্কে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে। তবে তাঁদের বৈঠকের কোনো সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
যুদ্ধের সপ্তম মাস
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু করার পর সংঘাতটি কয়েক মাস ধরে চলছে। এর জবাবে ইরান ইসরাইল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। সংঘাতের প্রভাব সামরিক ক্ষেত্রের পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যেও পড়েছে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নৌ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধ সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথটির পরিস্থিতি নিয়ে কয়েক মাস ধরেই কূটনৈতিক আলোচনা চলছে। জুনে দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতার পরও এর বিভিন্ন শর্ত নিয়ে মতপার্থক্য দেখা দেয় এবং পরবর্তী সময়ে আবার সামরিক উত্তেজনা বেড়ে যায়।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বুধবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে সংযম দেখিয়ে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। বেইজিংয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির সঙ্গে বৈঠকে তিনি জুনের অন্তর্বর্তী সমঝোতার ভিত্তিতে আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বান জানান এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় নিরাপদভাবে খুলে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপরও বাড়ছে চাপ
ইরান যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় দেশগুলোও সরাসরি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে। এসব দেশের কয়েকটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এবং সংঘাতের সময় সেগুলো ইরানি হামলার লক্ষ্য হয়েছে। একই সঙ্গে তেল ও গ্যাস রপ্তানি এবং সমুদ্রপথে বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ার কারণে এসব দেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়েছে।
এর মধ্যেই ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতি নতুন করে আঞ্চলিক উদ্বেগ তৈরি করেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, হুতিরা লোহিত সাগরের উপকূলবর্তী গুরুত্বপূর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও জ্বালানি অবকাঠামো নিয়েও নতুন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
ফলে নিউইয়র্কে ট্রাম্প ও উপসাগরীয় নেতাদের বৈঠক শুধু ইরান যুদ্ধের পরবর্তী পরিকল্পনা নয়, হরমুজ প্রণালি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং যুদ্ধ-পরবর্তী মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে। তবে বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কথিত যুদ্ধ-পরবর্তী পরিকল্পনার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা কী হবে, তা এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
