দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে বিদেশি প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানানোর সময় ভিন্ন ভিন্ন কোরআনের আয়াত তেলাওয়াতের ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদলের সামনে আলাদা আয়াত পাঠের মাধ্যমে তেহরান প্রতীকী কূটনৈতিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ও বিশ্লেষণে দেখা যায়, শোকানুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি কফিনের সামনে পৌঁছালে প্রতিবার একই আয়াতের পরিবর্তে ভিন্ন ভিন্ন আয়াত তেলাওয়াত করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কূটনৈতিক মহলে নানা ব্যাখ্যা সামনে এসেছে।
প্রকাশিত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আফগানিস্তানের প্রতিনিধিদলের উপস্থিতিতে সূরা আল ফাতহর প্রথম আয়াত তেলাওয়াত করা হয়, যা বিজয়ের বার্তার সঙ্গে সম্পর্কিত। বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের সময় সূরা আলে ইমরানের ১৬৯ ও ১৭০ নম্বর আয়াত পাঠ করা হয়, যেখানে আল্লাহর পথে নিহতদের মর্যাদার কথা উল্লেখ রয়েছে। একইভাবে ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদলের সামনে সূরা বনি ইসরাইলের প্রথম আয়াত, কাতারের ক্ষেত্রে সূরা আল ফাতহর প্রথম থেকে তৃতীয় আয়াত, পাকিস্তানের ক্ষেত্রে সূরা বনি ইসরাইলের ৮০ নম্বর আয়াত এবং তুরস্কের প্রতিনিধিদলের সময় সূরা আন নিসার ৯৫ নম্বর আয়াত তেলাওয়াত করা হয়।
এসব আয়াতের নির্বাচনকে অনেক পর্যবেক্ষক প্রতীকী কূটনৈতিক ভাষা হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও, এটি ইরানের আনুষ্ঠানিক নীতিগত বার্তা ছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সরকারি বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বা সংশ্লিষ্ট কিছু গণমাধ্যমে আয়াতগুলোর সম্ভাব্য তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা প্রকাশিত হলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা শোকানুষ্ঠান আয়োজক কমিটি এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার করে কূটনৈতিক ইঙ্গিত দেওয়া মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন নয়। তবে খামেনির শোকানুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিনিধিদলের জন্য আলাদা আয়াত পাঠের ঘটনাটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বিশেষ মনোযোগ পেয়েছে। কেউ এটিকে আঞ্চলিক মিত্রদের প্রতি সম্মান ও রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে প্রতীকী যোগাযোগের অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।
এদিকে শোকানুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিনিধি অংশ নিলেও কোন দেশের জন্য কোন আয়াত কেন নির্বাচন করা হয়েছে, সে বিষয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা না থাকায় প্রচারিত ব্যাখ্যাগুলোকে বিশ্লেষক ও গণমাধ্যমের মূল্যায়ন হিসেবেই দেখা হচ্ছে, নিশ্চিত সরকারি অবস্থান হিসেবে নয়।
