লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা আশ্রয়কেন্দ্রে পাহাড়ধ্বসে ৮ জন নিহত, এক পরিবারের চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যু

প্রকাশিত: 06 জুলাই 2026

17 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে টানা ভারী বৃষ্টির কারণে একাধিক পাহাড়ধসে অন্তত আটজন রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের চার সদস্য রয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত দুইজন। প্রশাসন ও উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, পাহাড়ের ঢালে ঝুঁকিপূর্ণভাবে নির্মিত বসতিগুলোতে গভীর রাতে ভূমিধসের ঘটনায় এই প্রাণহানি ঘটে।

রোববার দিবাগত রাত একটার পর থেকে সাড়ে তিনটার মধ্যে উখিয়ার বালুখালী, কুতুপালং ও জামতলি আশ্রয়শিবিরে পৃথক চারটি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটে বালুখালী আশ্রয়শিবিরের সি ১১ ব্লকে। সেখানে পাহাড় ধসে চাপা পড়ে নিহত হন রোহিঙ্গা আবদুর রাজ্জাকের দুই মেয়ে উম্মে হাবিবা (২৭), তানজিনা আক্তার (১৩) এবং উম্মে হাবিবার দুই শিশু সন্তান রিহান (৫) ও হারুনুর রশিদ (৩)। দুর্ঘটনার সময় তারা একই ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জীবনের নিরাপত্তার আশায় মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এলেও শেষ পর্যন্ত প্রকৃতির নির্মমতায় তাদের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, প্রবল বর্ষণে পাহাড়ের বিশাল অংশ ধসে পড়ে বাঁশ, কাঠ ও ত্রিপল দিয়ে তৈরি অন্তত ১০ থেকে ১৫টি বসতঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। উদ্ধার অভিযান শেষ হলেও ধ্বংসস্তূপের চিহ্ন তখনও স্পষ্ট ছিল। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় রোহিঙ্গারাও মাটি সরিয়ে হতাহতদের উদ্ধারে অংশ নেন।

স্থানীয় রোহিঙ্গা নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আবদুর রাজ্জাকের পরিবার দেড় বছর আগে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংঘাতের মুখে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। সরকারিভাবে বসবাসের জায়গা না পাওয়ায় তারা পাহাড়ের নিচে অস্থায়ী ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছিলেন। সেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানই শেষ পর্যন্ত তাদের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

একই রাতে জামতলি আশ্রয়শিবিরে পৃথক পাহাড়ধসে নিহত হন কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং চার বছরের ছেলে মোহাম্মদ আনাস। পরিবারের আরও দুই সদস্য আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া কুতুপালং আশ্রয়শিবিরে আরেকটি ভূমিধসে সাত বছর বয়সী একরাম নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানান, নারী ও শিশুসহ মোট আটজন রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন। উদ্ধারকাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হলেও প্রবল বৃষ্টি ও নরম মাটির কারণে অভিযান পরিচালনায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দুপুর পর্যন্ত কক্সবাজারে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আরও অন্তত দুই দিন ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা থাকায় নতুন করে পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, ইতোমধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে অন্তত এক হাজার রোহিঙ্গাকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় আরও কয়েক হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। প্রাণহানি এড়াতে আশ্রয়শিবিরজুড়ে সতর্কতামূলক প্রচারণাও জোরদার করা হয়েছে।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman