দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর বৈধতা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আপিল মামলার শুনানি শেষ হয়েছে। টানা তিন দিনের শুনানি শেষে দেশের সর্বোচ্চ আদালত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) এ বিষয়ে রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেছেন। বহুল আলোচিত এই মামলার রায় বাংলাদেশের সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে আইনজীবী ও বিশ্লেষকদের ধারণা।
বুধবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ শুনানি শেষে রায়ের জন্য দিন ধার্য করেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। অপরদিকে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির এবং ড. শরীফ ভূঁইয়া।
এর আগে গত বছরের ১৩ নভেম্বর আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলগুলো শুনানির জন্য অনুমতি দেন। পরে ধারাবাহিক শুনানির মাধ্যমে মামলার সব পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়।
মামলার সূত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর পৃথক দুটি রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি ধারা অসাংবিধানিক ঘোষণা করে রায় দেন। একই সঙ্গে সংশোধনীর কয়েকটি বিধান বাতিল করা হয়। ওই রায়ের ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের সাংবিধানিক পথ উন্মুক্ত হয়েছে বলে পর্যবেক্ষণ উঠে এলেও, তা কার্যকর করার ক্ষেত্রে আরও আইনি প্রক্রিয়া প্রয়োজন বলে আদালত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
পরবর্তীতে হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি আপিল দায়ের করা হয়। সুশাসনের জন্য নাগরিকের সম্পাদকসহ চার ব্যক্তি, নওগাঁর বাসিন্দা মো. মোফাজ্জল হোসেন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এসব আপিল করা হয়। আপিল বিভাগে সেই আপিলগুলোর ওপর একসঙ্গে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলাদেশের সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হয়। সে সময়ের সরকার এই সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপসহ সংবিধানের ৫৪টি বিষয়ে পরিবর্তন আনে। পরবর্তী সময়ে এই সংশোধনীর সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক চলতে থাকে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আপিল বিভাগের রায় শুধু তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নয়, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর বিভিন্ন বিধানের ভবিষ্যৎ অবস্থান সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতের সাংবিধানিক ব্যাখ্যা এবং নির্বাচনব্যবস্থা নিয়েও এই রায়ের প্রভাব থাকতে পারে।
তবে রায় ঘোষণার আগে মামলার ফলাফল সম্পর্কে কোনো ধরনের পূর্বধারণা দেওয়ার সুযোগ নেই। আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়ের পরই হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে কি না অথবা কোনো পরিবর্তন আসবে কি না, তা স্পষ্ট হবে।
