দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ঈদুল আজহার পর সারাদেশে মাসব্যাপী গণসংযোগ ও সাংগঠনিক কর্মসূচিতে ফিরছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন, রাষ্ট্র সংস্কার এবং সরকারবিরোধী প্রচারণার পাল্টা জবাব দিতে দলটি তৃণমূল পর্যায়ে নতুন করে রাজনৈতিক সক্রিয়তা বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে।
দলীয় সূত্র বলছে, বিএনপির পাশাপাশি ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলকে সমন্বিতভাবে মাঠে নামানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে উঠান বৈঠক, পথসভা, লিফলেট বিতরণ, গণসংযোগ, মিছিল ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হবে। জেলা, মহানগর, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গত ৯ মে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে এসব কর্মসূচির রূপরেখা তুলে ধরেন বলে জানা গেছে। সেখানে তিনি নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং মাঠপর্যায়ে সরকারের কার্যক্রম জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান।
দলীয় নেতারা জানান, “জুলাই সনদ” ও “গণভোট” ইস্যুতে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সমালোচনার জবাব দিতেই এ কর্মসূচির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বিএনপি রাষ্ট্র সংস্কার চায় না কিংবা জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অনাগ্রহী এমন প্রচারণার বিরুদ্ধে দলটি নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে চায়।
ইতোমধ্যে রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় লিফলেট বিতরণ শুরু হয়েছে। তবে ঈদুল আজহার ছুটি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় পূর্ণমাত্রার কর্মসূচি ঈদের পর শুরু হবে বলে জানিয়েছেন নেতারা।
ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা জানান, লিফলেটে জুলাই সনদের বিভিন্ন অনুচ্ছেদ, সংসদীয় সংস্কার, নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি এবং উচ্চকক্ষ গঠনের মতো বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। একইসঙ্গে বিএনপি স্বাক্ষরিত জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বেচ্ছাসেবক দল ও মহানগর বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন, ওয়ার্ডভিত্তিক প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার সংসদ সদস্যদেরও এসব কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় পর আবারও মাঠমুখী কর্মসূচির মাধ্যমে বিএনপি সাংগঠনিক শক্তি পুনর্গঠন এবং জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে চাইছে। একইসঙ্গে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সক্রিয় করাও দলটির অন্যতম লক্ষ্য।
ঈদের পর এই ধারাবাহিক মাঠ কর্মসূচি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে রাষ্ট্র সংস্কার ও জুলাই সনদ ইস্যুকে সামনে রেখে বিএনপি রাজনৈতিক বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে চাইছে। এতে আগামী মাসগুলোতে রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও স্পষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
