দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক এফ ৩৫এ স্টেলথ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার দাবিকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন আলোচনা ও বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। বিভিন্ন আঞ্চলিক সূত্রের দাবি, বিমানটি সম্ভবত ইরানের তৈরি মাজিদ এডি ০৮ স্বল্পপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার হামলায় বিধ্বস্ত হয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে এ দাবি নিশ্চিত করেনি, তবু ঘটনাটি স্টেলথ প্রযুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
মাজিদ একটি স্বল্পপাল্লার সারফেস টু এয়ার মিসাইল ব্যবস্থা, যা নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়া লক্ষ্যবস্তু যেমন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও কৌশলগত যুদ্ধবিমান প্রতিহত করার জন্য তৈরি। প্রচলিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিপরীতে এটি রাডার ব্যবহার করে না। ফলে এফ ৩৫ এর মতো আধুনিক বিমানের রাডার সতর্কীকরণ ব্যবস্থায় আগাম সংকেত ধরা কঠিন হয়ে পড়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, মাজিদ সিস্টেমে উচ্চক্ষমতার ইলেকট্রো অপটিক্যাল সেন্সর ও থার্মাল ইমেজিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যা আকাশে উড়ন্ত বিমানের ইঞ্জিনের তাপ বা ঘর্ষণজনিত তাপমাত্রার পার্থক্য শনাক্ত করতে সক্ষম। সাধারণত হালকা চার চাকার সামরিক যান বা আইভেকো ডেইলি ধরনের প্ল্যাটফর্মে বসানো হওয়ায় এটি দ্রুত স্থান পরিবর্তন করতে পারে, যা এর টিকে থাকার সক্ষমতা বাড়ায়।
এডি ০৮ ক্ষেপণাস্ত্রে ইনফ্রারেড সিকার ব্যবহারের কারণে এটি ফায়ার অ্যান্ড ফরগেট পদ্ধতিতে কাজ করে। অর্থাৎ নিক্ষেপের পর অপারেটরের নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই লক্ষ্যবস্তু অনুসরণ করতে পারে।
কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যে বিমানটি ভূপাতিত করার দাবি করেছে সেটি হয়তো ঘাঁটিতে ফিরতে না পেরে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় জুবাইল এলাকায় বিধ্বস্ত হয়েছে। ওই অঞ্চলে অনুসন্ধান কার্যক্রম চালানোর খবরও পাওয়া গেছে, যদিও এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনা সত্য প্রমাণিত হলে এটি দেখাবে যে আধুনিক স্টেলথ প্রযুক্তি পুরোপুরি অজেয় নয় এবং ভবিষ্যতে গভীর এলাকায় হামলার কৌশলে পরিবর্তন আনতে হতে পারে।
