লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৪.৮৭ বিলিয়ন ডলার, অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত

প্রকাশিত: 21 এপ্রিল 2026

6 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত ৩৪ হাজার ৮৭৩ দশমিক ৩২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন, যা সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনীতিতে কিছুটা স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অর্থমন্ত্রী জানান, ইনেরন্যাশনাল মনিটারি ফান্ড এর বিপিএম ৬ পদ্ধতি অনুযায়ী দেশের ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ২০১ দশমিক ৭১ মিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে এই হিসাবকে অধিক স্বচ্ছ ও বাস্তবসম্মত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

রয়টার্স এবং ব্লুমবার্গ এর সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি আমদানি ব্যয় সামাল দেওয়া এবং মুদ্রার স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের ভঙ্গুর আর্থিক খাত পুনরুদ্ধার এবং দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী করার জন্য সরকার একটি সমন্বিত নীতিকাঠামো গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে মুদ্রানীতি, রাজস্বনীতি, বিনিময় হার নীতি এবং মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক কাঠামোর সমন্বয়ে একটি কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ২০২৬ থেকে ২০২৯ সময়কালের জন্য প্রযোজ্য হবে।

তিনি আরও জানান, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নীতি সুদহার ১০ শতাংশে রাখা হয়েছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি যেখানে ১৪ দশমিক ১০ শতাংশ ছিল, তা কমে ২০২৬ সালের মার্চে ৮ দশমিক ২৪ শতাংশে নেমে এসেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এটি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপের একটি ইতিবাচক ফলাফল।

বর্তমানে বাজারভিত্তিক বিনিময় হার ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী। ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক এর প্রতিবেদনে বলা হয়, বাজারভিত্তিক বিনিময় হার দীর্ঘমেয়াদে বৈদেশিক বাণিজ্যে ভারসাম্য আনতে সহায়তা করে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সংকটে থাকা উৎপাদন ও আর্থিক কার্যক্রমকে সহায়তা দিতে বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক এর মাধ্যমে বিশেষ সহায়তামূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মুদ্রার অবমূল্যায়নের কারণে ব্যবসায়ীদের ওপর যে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তা কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরাতে সরকার সংস্কারমূলক উদ্যোগও নিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে পুঁজিবাজার সংস্কার কমিশন গঠন, বন্ড ও ইক্যুইটি বাজার শক্তিশালী করা, ব্লকচেইন প্রযুক্তির ব্যবহার এবং প্রবাসীদের জন্য বিনিয়োগ সুবিধা চালুর পরিকল্পনা।

রিজার্ভ বৃদ্ধির প্রবণতা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হলেও দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা নির্ভর করবে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, প্রবাসী আয় এবং আর্থিক খাতের সংস্কারের বাস্তবায়নের ওপর। সমন্বিত নীতিকাঠামো কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে অর্থনীতিতে আস্থা আরও জোরদার হতে পারে।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman