দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের সড়ক, রেল ও নৌপথে যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে অনুমোদন ও ফিটনেসবিহীন নৌযান চলাচল বন্ধে কঠোর অবস্থানের কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা।
রোববার রাজধানীর ইস্কাটন রোড এর লেডিস ক্লাব এ আয়োজিত “নৌনিরাপত্তা সপ্তাহ ২০২৬” উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন, নৌ ও রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ঈদযাত্রাকে স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ করতে সরকারের পক্ষ থেকে সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, সড়ক, রেল ও নৌপথে যাত্রীচাপ সামাল দিতে আগাম পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, দেশের নৌখাতকে আরও আধুনিক ও নিরাপদ করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দক্ষতা, সততা ও দায়িত্বশীলতার বিকল্প নেই। তিনি যাত্রীসেবা উন্নয়নে প্রযুক্তি ও নজরদারি বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান বলেন, ঈদের আগে কোনো অনুমোদনহীন বা ফিটনেসবিহীন নৌযান চলাচল করতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে নৌপুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে নৌপথের দুর্ঘটনা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা সম্ভব।”
বাংলাদেশে ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর কোটি মানুষ রাজধানী ও বড় শহর ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে যাত্রা করেন। এ সময় অতিরিক্ত যাত্রীচাপ, যানজট, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে নৌপথে অতিরিক্ত যাত্রী বহন ও ফিটনেসবিহীন লঞ্চ চলাচল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ রয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকার ঈদযাত্রা ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল টিকিটিং, অতিরিক্ত ট্রেন সার্ভিস, বিশেষ মনিটরিং টিম এবং ঘাট এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের মতো বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে ইতোমধ্যে ঈদ উপলক্ষে বিশেষ ট্রেন পরিচালনার প্রস্তুতি শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, কেবল প্রশাসনিক নির্দেশনা নয় বরং বাস্তব মাঠপর্যায়ের তদারকি ও আইন প্রয়োগই ঈদযাত্রাকে সত্যিকার অর্থে নিরাপদ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারা বিশেষ করে নৌযানে অতিরিক্ত যাত্রী বহন বন্ধ, মহাসড়কে যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
