দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতির ওপর আস্থা নেই বলে কঠোর বার্তা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বাহিনীটি জানিয়েছে, সম্ভাব্য যেকোনো সংঘাতের জন্য তাদের বাহিনী এখনো পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে এবং “ট্রিগারে আঙুল রাখা আছে”।
আইআরজিসির টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সুপ্রিম কমান্ডারের নির্দেশনা অনুযায়ী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে অবিশ্বস্ত উল্লেখ করে বলা হয়, অতীত অভিজ্ঞতায় ওয়াশিংটনের প্রতিশ্রুতিকে নির্ভরযোগ্য মনে করার সুযোগ নেই। যেকোনো আগ্রাসনের জবাব আরও কঠোরভাবে দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
একই সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক বা কৌশলগত সহযোগিতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায় আইআরজিসি। তাদের দাবি, আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ানোর পেছনে বহিরাগত শক্তির ভূমিকা রয়েছে।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, চীনের মধ্যস্থতায় ইরান আলোচনায় আগ্রহী হয়েছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার কাঠামো তৈরি হচ্ছে এবং ১৫ দফা প্রস্তাবের অধিকাংশ বিষয়ে নীতিগত সম্মতি পাওয়া গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে আন্তর্জাতিক মহল।
যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও পারস্পরিক অবিশ্বাস স্পষ্ট থাকায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। সামরিক সতর্কতা বজায় থাকলে যেকোনো ছোট ঘটনা দ্রুত বড় সংকটে রূপ নিতে পারে, যা সরাসরি জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলবে।
সূত্র: AFP
