দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়তে থাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে অন্তত ২৩ কিলোমিটার এলাকায় থেমে থেমে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, টানা বৃষ্টি এবং যমুনা সেতু সংযোগ সড়কে একাধিক গাড়ি বিকল হয়ে পড়ায় সোমবার রাত থেকে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, যানজটের বিস্তৃতি যমুনা সেতু টোল প্লাজা থেকে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার রাবনা এলাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে। এতে উত্তরবঙ্গমুখী যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বৃদ্ধ যাত্রীরা দীর্ঘ সময় আটকে থেকে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
যাত্রীরা জানান, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি সময় লাগছে গন্তব্যে পৌঁছাতে। কেউ কেউ বাসে জায়গা না পেয়ে পণ্যবাহী ট্রাকেও যাত্রা করছেন। পাবনাগামী যাত্রী মোতালেব মিয়া বলেন, দেড় ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে সময় লেগেছে সাড়ে তিন ঘণ্টার বেশি। অনেকেই মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রয়েছেন।
আরেক যাত্রী নিলুফা বেগম জানান, টাঙ্গাইলের ঘারিন্দা এলাকা পার হওয়ার পর থেকেই যানবাহন ধীরগতিতে চলছে। কিছু দূর এগিয়ে আবার দীর্ঘক্ষণ থেমে থাকতে হচ্ছে। অতিরিক্ত গরম, ভিড় ও বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
পরিবহন সংকটের কারণে অনেক যাত্রীকে বাড়তি ভাড়া গুনতেও হচ্ছে। কয়েকজন যাত্রী অভিযোগ করেন, কোনো কোনো রুটে স্বাভাবিকের তুলনায় দুই থেকে তিন গুণ বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। ফলে নিম্নআয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যান সমিতি সম্প্রতি অভিযোগ করেছে, অতিরিক্ত ভাড়া ও অপরিকল্পিত ঈদযাত্রার কারণে সাধারণ মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ পরিবহন ব্যবহারে বাধ্য হচ্ছেন। গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে একাধিক দুর্ঘটনার পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানিয়েছেন, বৃষ্টি ও যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কারণে সাময়িক জটলা তৈরি হয়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে এবং দিনের মধ্যে যান চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
প্রতি ঈদেই উত্তরবঙ্গমুখী মহাসড়কে একই ধরনের সংকট দেখা দিলেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিকল্প রুট, গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা ও মহাসড়ক তদারকি জোরদার ছাড়া ঈদযাত্রার দুর্ভোগ কমানো কঠিন হবে।
