লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

ট্রাইব্যুনালে নয়, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রায় লেখা হয়েছিল আইন মন্ত্রণালয়ে

প্রকাশিত: 10 মে 2026

33 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

বিএনপির সাবেক স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ছয়বারের সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী এর মৃত্যুদণ্ডের রায় নিয়ে বিতর্ক একদম শুরু থেকেই ছিল, যা সম্প্রতি আবার আলোচনায় এসেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া তার মৃত্যুদণ্ডের রায় আদালতের বাইরে আইন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তুত করা হয়েছিল এবং বিচারকরা কেবল সেটি পাঠ করে শোনান।

প্রতিবেদনে বলা হয়, তৎকালীন আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ টিম রায়ের খসড়া তৈরি করে। পরে সেটি ই-মেইলের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, রায় ঘোষণার আগেই সেই নথির কপি আসামিপক্ষের আইনজীবীদের হাতেও পৌঁছে যায়।

ঘটনাটি নতুন নয়। ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর রায় ঘোষণার দিন আদালতেই আসামিপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম দাবি করেছিলেন, আদালত যে রায় পড়তে যাচ্ছে সেটি আগেই তাদের হাতে এসেছে এবং তা আইন মন্ত্রণালয় থেকে তৈরি করা হয়েছে। সে সময় বিষয়টি দেশি বিদেশি গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এমনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সে সময় ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া ও মৃত্যুদণ্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। সংস্থাটি বলেছিল, বিচার অবশ্যই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী হতে হবে এবং মৃত্যুদণ্ড ন্যায়বিচারের বিকল্প হতে পারে না।

একই সময়ে ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অফ জুরিস্টস বা আইসিজেও ট্রাইব্যুনালের কয়েকটি মামলার বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলে। সংস্থাটি বলেছিল, রাজনৈতিক চাপ ও দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের মানদণ্ডকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পেছনে সরকারের অবস্থান ছিল ভিন্ন। সরকার বরাবরই দাবি করে এসেছে, ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতেই ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয় এবং এটি ছিল মুক্তিযুদ্ধের ন্যায়বিচারের অংশ।

২০১৫ সালের ২২ নভেম্বর সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তার পরিবার ও দল বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে এ বিচারকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে। পরিবারের অভিযোগ, তিনি “জুডিশিয়াল কিলিং” এর শিকার হয়েছেন।

প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, তার ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী পরবর্তীতে গুমের শিকার হন এবং সম্প্রতি দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি দীর্ঘদিন গোপন আটক ও নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের বিচার বিভাগ ও রাজনৈতিক ইতিহাসে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এখনও অত্যন্ত সংবেদনশীল ও বিভাজিত একটি অধ্যায়। এক পক্ষ এটিকে মুক্তিযুদ্ধের বিচার হিসেবে দেখলেও অন্য পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছে। ফলে নতুন এসব অভিযোগ ভবিষ্যতে আবারও রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক উসকে দিতে পারে।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman