দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে সীমিত প্রতিরক্ষামূলক সামরিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নিজেদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, এই অনুমতি কেবল নির্দিষ্ট ও সীমিত প্রতিরক্ষামূলক অভিযানের জন্য দেওয়া হয়েছে এবং সরাসরি আক্রমণাত্মক যুদ্ধে যুক্ত হওয়ার উদ্দেশ্যে নয়।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের কার্যালয় জানিয়েছে, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কার্যক্রম মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চলাচলের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। সেই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়, যাতে ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা প্রতিরোধ করা যায় এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, রয়্যাল এয়ার ফোর্স ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিরক্ষামূলক টহল ও নজরদারি জোরদার করেছে। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য ব্রিটিশ নাগরিক, মিত্র দেশ ও আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল নিরাপদ রাখা।
এদিকে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত মহাসাগরের কৌশলগত ডিয়েগো গার্সিয়া সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ইরান মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তবে যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, হামলার বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর একটি মাঝপথে বিকল হয় এবং অন্যটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ভূপাতিত করা হয়।
ইরান সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ দিলে যুক্তরাজ্য সংঘাতে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারী হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ফলে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাজ্য সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে না চাইলেও প্রতিরক্ষামূলক সহযোগিতার মাধ্যমে কার্যত সংঘাতের নিরাপত্তা বলয়ের অংশ হয়ে যাচ্ছে। এতে পশ্চিমা জোটের ঐক্য শক্তিশালী হলেও ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
