দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার ১২তম দিনে এসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান হামলা “শিগগিরই শেষ” হবে। তবে একই সময়ে মার্কিন ও ইসরাইলি কর্মকর্তারা আরও কয়েক সপ্তাহ অভিযান চলতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
বুধবার ট্রাম্প বলেন, ইরানে হামলার মতো “প্রায় আর কোনো লক্ষ্যবস্তু অবশিষ্ট নেই”, তাই সামরিক অভিযান দ্রুত শেষ হতে পারে। কিন্তু অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অন্তত আরও দুই সপ্তাহ হামলার প্রস্তুতি রয়েছে এবং এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযান বন্ধের কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান যুদ্ধ বন্ধের জন্য তিনটি শর্ত ঘোষণা করেছেন। তার মতে, সংঘাত শেষ করতে হলে ইরানের “বৈধ অধিকার স্বীকৃতি”, যুদ্ধক্ষতির ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ভবিষ্যতে আগ্রাসন ঠেকাতে আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা দিতে হবে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে ফোনালাপে তিনি বলেন, ইরান আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে সংঘাত চায় না, তবে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করবে।
ইরানের জাতিসংঘ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত দেশটিতে ১,৩০০ এর বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত এবং প্রায় ৯,৬৬৯টি বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। অন্যদিকে পেন্টাগন জানিয়েছে, সংঘাতে প্রায় ১৪০ মার্কিন সেনা আহত হয়েছে এবং সাতজন নিহত হয়েছে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা “অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪” এর ৪০তম ধাপের হামলা চালিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে ইরান পূর্বের সীমিত পাল্টা হামলার নীতি বাদ দিয়ে ধারাবাহিক আক্রমণ কৌশল গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে।
হরমুজ প্রণালী নিয়েও উত্তেজনা বাড়ছে। ইরান বলেছে, প্রয়োজনে তারা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ এই পথ পুরোপুরি বন্ধ করতে সক্ষম। ট্রাম্প পাল্টা মন্তব্যে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি “খুব গুরুত্বের সঙ্গে” পর্যবেক্ষণ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ শেষের সময়সূচি নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এবং জ্বালানি সরবরাহ ঝুঁকির কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে।
সূত্র: সিজিটিএন (CGTN)।
