লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের কার্যকলাপ জলদস্যুতার শামিল, যথোপযুক্ত জবাবের হুঁশিয়ারি তেহরানের

প্রকাশিত: 20 এপ্রিল 2026

11 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

ওমান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজ আটকের ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করেছে, মার্কিন বাহিনী ‘জলদস্যুতার মাধ্যমে’ জাহাজটি দখল করেছে এবং এতে সরাসরি পাল্টা জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এবং আল জাজিরা এর প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির ‘হজরত খাতাম আল আম্বিয়া’ সামরিক সদর দপ্তরের এক বিবৃতিতে এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়, ওমান সাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন বাহিনী জাহাজটিতে গুলি চালায় এবং পরে তাদের মেরিন সেনাদের ডেকে নামিয়ে জাহাজটির নেভিগেশন ব্যবস্থা অচল করে দেয়। ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল এবং একে ‘সশস্ত্র জলদস্যুতা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তেহরান আরও সতর্ক করে বলেছে, তাদের সশস্ত্র বাহিনী খুব দ্রুত এই ঘটনার ‘উপযুক্ত জবাব’ দেবে। এতে করে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক মহলেও এই ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। মার্কিন থিংক ট্যাংক আটলান্টিক কাউন্সিল এর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হারলেন উলমান এই ঘটনাকে ‘যুদ্ধ ঘোষণার শামিল’ বলে মন্তব্য করেছেন। আল জাজিরা’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এমন পদক্ষেপ সরাসরি সামরিক উত্তেজনা উসকে দিতে পারে এবং এটি আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতেও প্রশ্নবিদ্ধ।

তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই একটি সার্বভৌম দেশের বাণিজ্যিক জাহাজে এভাবে হস্তক্ষেপ করে থাকে, তাহলে তা কার্যত যুদ্ধ পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিতে পারে। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান জটিল কূটনৈতিক যোগাযোগকে আরও সংকটে ফেলবে।

অন্যদিকে রয়টার্স এবং AP এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে বাড়তি সতর্কতার কথা বলা হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল পরিবহন হয়, ফলে এখানে যে কোনো সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে।

ঘটনাটি যদি দ্রুত কূটনৈতিকভাবে সমাধান না হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সামরিক উত্তেজনা বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির মতো কৌশলগত স্থানে এমন সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতি এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে অস্থির করে তুলতে পারে।

 

সূত্র: Al Jazeera, Tasnim News Agency

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman