দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পেট্রোল ও অকটেন নিতে মোটরসাইকেল ও গাড়ি চালকদের দীর্ঘ সারি এখনো দেখা যাচ্ছে। এপ্রিল মাসের প্রথম ২০ দিনে দেশে ১২টি তেলবাহী জাহাজ এসেছে। এতে ডিজেল, অকটেন, জেট ফুয়েল ও ফার্নেস তেলের মজুত কিছুটা বেড়েছে। তবে ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভিড় কমছে না। অনেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের তথ্য অনুসারে এপ্রিলে ৮টি জাহাজে ২ লাখ ৭৪ হাজার টন ডিজেল এসেছে। দুটি জাহাজে ৫৩ হাজার টন অকটেন এবং ভারত থেকে পাইপলাইনে আরও ১২ হাজার টন ডিজেল এসেছে। গত রোববার থেকে অনেক স্টেশনে সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। বিপিসি আশা করছে কয়েক দিনের মধ্যে চাপ কমবে।
প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম বলেছেন এপ্রিলে কোনো সংকট নেই। অকটেনের মজুত ইতিমধ্যে মাসিক চাহিদার চেয়ে বেশি। ডিজেলের চাহিদা মাসে প্রায় ৪ লাখ টন। ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত সরবরাহযোগ্য মজুত ছিল ১ লাখ ২ হাজার টনের বেশি এবং আরও ১ লাখ ৬৪ হাজার টন খালাসের অপেক্ষায়। অকটেনের মজুত ২৯ হাজার টনের বেশি যা ২৪ দিনের চাহিদা মেটাতে পারে। পেট্রলের মজুত ১৯ হাজার টনের মতো যা ১৪ দিন চলবে।
তবে বাস্তবে চিত্র ভিন্ন। চট্টগ্রামের টাইগারপাসসহ বিভিন্ন স্টেশনে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন আগের ঘাটতির কারণে তৈরি হওয়া আতঙ্ক এখনো পুরোপুরি কাটেনি। নতুন সরবরাহ বাড়লেও তা সব স্টেশনে সমানভাবে পৌঁছাতে সময় লাগছে। অনেক স্টেশন আগের মতোই সীমিত পরিমাণে তেল দিচ্ছে।
দেশে তেলের মজুত যথেষ্ট থাকলেও পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইনের মূল কারণ হলো প্যানিক বাইং এবং সরবরাহ বিতরণে বিলম্ব। ইরান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় মানুষ অতিরিক্ত তেল কিনে মজুত করছেন। ফলে স্বাভাবিক চাহিদার চেয়ে ২০-৩০ শতাংশ বেশি চাপ পড়ছে স্টেশনগুলোতে। বিপিসি সরবরাহ বাড়ালেও পাইপলাইন, ট্যাংকার পরিবহন ও স্থানীয় বিতরণ ব্যবস্থায় দ্রুততা না আনলে এই লাইন সহজে কমবে না। সরকারকে আরও স্বচ্ছ তথ্য প্রচার এবং বিতরণ ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
