দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ওয়াশিংটন ১৭ মে ২০২৬ : ইরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় আগামী সপ্তাহের মধ্যেই নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের বরাত দিয়ে একাধিক আন্তর্জাতিক সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বর্তমানে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি জোরদার করছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর এটিই সবচেয়ে বড় সামরিক প্রস্তুতি বলে মনে করা হচ্ছে। আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সামরিক বিকল্পগুলো পুনরায় সক্রিয় করার পরিকল্পনা বিবেচনা করছে।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য নতুন হামলায় ইরানের সামরিক স্থাপনা, অবকাঠামো এবং কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে আগের তুলনায় আরও তীব্র বোমাবর্ষণ হতে পারে। একই সঙ্গে পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপকে ঘিরেও সামরিক পরিকল্পনার আলোচনা চলছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আরও বলা হয়েছে, ইরানের সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম উদ্ধার করতে বিশেষ কমান্ডো অভিযান চালানোর সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে। তবে সামরিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে এবং এতে ব্যাপক হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, তেল আবিব ইতোমধ্যে কয়েকদিন থেকে কয়েক সপ্তাহব্যাপী সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এখন ট্রাম্প প্রশাসনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।
অন্যদিকে ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কিছুটা নমনীয় অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইরান যদি দীর্ঘমেয়াদে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সীমিত রাখার বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য প্রতিশ্রুতি দেয় তাহলে আলোচনার সুযোগ থাকতে পারে।
তবে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এখনো অব্যাহত রয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অঞ্চলজুড়ে অস্থিরতা এবং পাল্টাপাল্টি হুমকি অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয় বরং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়লে বিশ্ববাজারে তেলের দামে নতুন অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
সূত্র : নিউইয়র্ক টাইমস, রয়টার্স
