লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

আসন্ন জাতীয় বাজেটে নিত্যপণ্যে কর ছাড়ের পরিকল্পনা,বিলাসী পণ্যে বাড়তি কর

প্রকাশিত: 14 মে 2026

25 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

আসন্ন ২০২৬ থেকে ২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার চাপ কমাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে কর ছাড়ের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। একই সঙ্গে বিলাসী জীবনযাপন ও আগ্নেয়াস্ত্রের ওপর বাড়তি কর আরোপের পরিকল্পনাও করা হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড NBR সূত্রে জানা গেছে, নতুন বাজেটে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি, আটা, ময়দা, পেঁয়াজ ও মসলাসহ বেশ কিছু নিত্যপণ্যের ওপর বিদ্যমান ১ শতাংশ উৎস কর প্রত্যাহার এবং টার্নওভার কর কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাজেট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, মূল্যস্ফীতি ও ডলার সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় করনীতিতে কিছু স্বস্তিমূলক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর চাপ কমানো এবং একই সঙ্গে উচ্চবিত্ত ও বিলাসী খাতে রাজস্ব বাড়ানো।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ব্যক্তিগত পিস্তল, রিভলভার ও শটগানের লাইসেন্স নবায়নে অগ্রিম আয়কর বাড়ানো হতে পারে। অস্ত্রভেদে এই কর ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারণের আলোচনা চলছে। বর্তমানে অস্ত্র লাইসেন্স নবায়নে নির্দিষ্ট ফি থাকলেও নতুন বাজেটে অতিরিক্ত অগ্রিম আয়কর যোগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ৫৩ হাজারের বেশি বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, নতুন কর কাঠামো চালু হলে শুধু লাইসেন্স নবায়ন থেকেই বছরে শত কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে।

এদিকে বিলাসবহুল প্রাইভেটকার, জিপ, হেলিকপ্টার ও ব্যক্তিগত বিমানের ওপরও বাড়তি আয়কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। পরিবেশবান্ধব হিসেবে পরিচিত বৈদ্যুতিক গাড়ির ক্ষেত্রেও উচ্চমূল্যের বিলাসবহুল মডেলে অগ্রিম আয়কর বাড়ানোর চিন্তা করছে সরকার। তবে মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের জন্য সাধারণ গাড়ির বিদ্যমান কর কাঠামো অপরিবর্তিত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন কর্মকর্তারা।

প্রথমবারের মতো ব্যাটারিচালিত রিকশাকেও করের আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বছরে ৫ হাজার টাকা এবং পৌরসভা এলাকায় ২ হাজার টাকা কর নির্ধারণ করা হতে পারে। যদিও এই খাতে কার্যকর নিবন্ধন ও কর আদায়কে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, নিত্যপণ্যে কর কমানোর সিদ্ধান্ত ইতিবাচক হলেও শুধু কর ছাড় দিলেই বাজারে দাম কমবে এমন নিশ্চয়তা নেই। কারণ পরিবহন ব্যয়, আমদানি নির্ভরতা, সরবরাহ সংকট, মজুতদারি এবং বাজার সিন্ডিকেটও মূল্যবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখে। তাই বাজার তদারকি বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।

বাংলাদেশে গত কয়েক বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতায় বড় প্রভাব ফেলেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো এর তথ্য অনুযায়ী খাদ্য মূল্যস্ফীতি এখনও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। ফলে আসন্ন বাজেটে কর ছাড়ের প্রস্তাব জনসাধারণের জন্য কিছুটা স্বস্তি বয়ে আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman