লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

চট্টগ্রামে হাম পরিস্থিতি ভয়াবহ, এক শয্যায় তিন শিশু নিয়ে চলছে চিকিৎসা

প্রকাশিত: 20 মে 2026

20 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

দেশজুড়ে বাড়তে থাকা হাম সংক্রমণের প্রভাব এখন ভয়াবহ আকার নিয়েছে চট্টগ্রামে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে শিশু রোগীর চাপ এতটাই বেড়েছে যে অনেক ক্ষেত্রে এক শয্যায় দুই থেকে তিনজন শিশুকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। বিশেষ করে পিআইসিইউ ও হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলার সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, হাসপাতালের হাম ইউনিটে ৫০ শয্যার বিপরীতে ভর্তি রয়েছে প্রায় ৮০ শিশু। অধিকাংশ শিশুর সঙ্গে ওয়ার্ডে অবস্থান করছেন তাদের মায়েরা। ফলে পুরো ওয়ার্ডজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে গাদাগাদি ও অস্বস্তিকর পরিবেশ। এতে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

বান্দরবানের আলীকদম থেকে সন্তানকে নিয়ে হাসপাতালে আসা হারুনুর রশীদ বলেন, তার দেড় বছর বয়সী সন্তান ১১ দিন ধরে চিকিৎসাধীন। তিনি অভিযোগ করেন, পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। চিকিৎসার বাইরে ওষুধ কিনতেও তাকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। তাঁর দাবি, অক্সিজেন সংকটের কারণেই সম্প্রতি এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

নোয়াখালী থেকে আসা আরেক অভিভাবক নয়ন জানান, হাম ইউনিটে চিকিৎসাসেবার মান শিশু ওয়ার্ডের তুলনায় অনেক দুর্বল। সীমিত জনবল ও অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে চিকিৎসক ও নার্সদের ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, শিশুদের জন্য মোট ২০টি পিআইসিইউ শয্যা থাকলেও তার মধ্যে ১৫টি এখন হাম আক্রান্ত শিশুদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। কিন্তু রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় শয্যার তুলনায় দ্বিগুণ সংকটাপন্ন শিশু চিকিৎসার অপেক্ষায় রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম পরবর্তী নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের অনেকের জন্য উচ্চমাত্রার অক্সিজেন প্রয়োজন হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ৬০ লিটার পর্যন্ত হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা ব্যবহার করতে হচ্ছে। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় যন্ত্রপাতি অত্যন্ত কম। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, পুরো হাসপাতালে হাই ফ্লো মেশিন রয়েছে মাত্র ৪১টি।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলার সংকটের কারণে সম্প্রতি এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুসা মিয়া বলেন, সীমিত সক্ষমতা নিয়েই সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। কাউকে ফেরত দেওয়া হচ্ছে না। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন জানান, শিশু আইসিইউর অর্ধেক শয্যা অনুদানের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।

এদিকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল ও বিআইটিআইডি হাসপাতালেও পৃথক হাম ইউনিট চালু করা হয়েছে। তবে চট্টগ্রামে হাম শনাক্তের পরীক্ষাগার না থাকায় রোগীদের নমুনা ঢাকায় পাঠাতে হচ্ছে। এতে রিপোর্ট পেতে এক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি, সচেতনতার অভাব এবং দ্রুত শনাক্তকরণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণেই পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে। তারা জরুরি ভিত্তিতে শিশুদের টিকাদান জোরদার, হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

#চট্টগ্রাম #হাম #শিশুস্বাস্থ্য #PICU #Bangladesh #PublicHealth #MedicalCrisis, চট্টগ্রাম মেডিকেল, হাম, শিশু রোগী, পিআইসিইউ, হাই ফ্লো ক্যানুলা, শিশুস্বাস্থ্য, অক্সিজেন সংকট, হাসপাতাল সংকট, নিউমোনিয়া, জনস্বাস্থ্য

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman