দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
প্রচণ্ড শীত আর ঘন কুয়াশার প্রভাবে বগুড়ার মহাস্থান হাটে ফুলকপির দামে বড় ধরনের ধস নেমেছে। রোববার সকালে উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ সবজি মোকাম মহাস্থানে প্রতি কেজি ফুলকপি দেড় টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে, যা চলতি মৌসুমে সর্বনিম্ন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভোর থেকেই কৃষকরা ভ্যান, অটোভ্যান ও ইজিবাইকে করে বিপুল পরিমাণ ফুলকপি হাটে আনেন। সকালে কিছুটা বেচাকেনা হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমদানি বেড়ে যায়, কিন্তু পাইকারের উপস্থিতি কমে যায়। ফলে ১০০ থেকে ১৩০ টাকা মণ দরে বিক্রি শুরু হলেও পরে তা নেমে আসে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা মণ দরে।
ব্যবসায়ীরা জানান, ঘন কুয়াশার কারণে দুপুর পর্যন্ত সূর্যের দেখা মেলেনি। এতে দূরদূরান্ত থেকে পাইকাররা সময়মতো হাটে পৌঁছাতে পারেননি। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে সংরক্ষণের সুবিধা না থাকা এবং চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত সরবরাহ।
শিবগঞ্জ উপজেলার বালুয়া গ্রামের কৃষক ফারুক ইসলাম জানান, ১০ মণ ফুলকপি এনে মাত্র ৪৫০ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন, যাতে শুধু ভ্যান ভাড়াই উঠেছে। একই উপজেলার কৃষক হেলাল প্রামাণিক ১৭ মণ কপি বিক্রি করেছেন ৫০ টাকা মণ দরে।
অন্যদিকে পাইকাররা এই সুযোগে বড় অঙ্কে কেনাকাটা করছেন। নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার কয়েকজন ব্যবসায়ী এক থেকে তিন টন পর্যন্ত ফুলকপি কিনেছেন বলে জানান।
কৃষি বিভাগ বলছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার সবজির উৎপাদন ভালো হয়েছে এবং একসঙ্গে বাজারে আসায় দাম কমেছে। তবে কর্মকর্তাদের আশাবাদ, দুই একদিনের মধ্যেই বাজার কিছুটা স্বাভাবিক হবে।
