দ্য সিভিলিয়ানস । স্পোর্টস ডেস্ক ।
স্বাগতিক মেক্সিকোর বিশ্বকাপ স্বপ্ন থামিয়ে শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে ইংল্যান্ড। রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ৩-২ গোলের জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছে থ্রি লায়ন্সরা। জুড বেলিংহামের জোড়া গোল এবং দলগত নৈপুণ্যে নকআউট পর্বের গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে জয় নিশ্চিত করে গ্যারেথ সাউথগেটের শিষ্যরা।
মেক্সিকোর ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে সোমবার অনুষ্ঠিত ম্যাচটি প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে প্রায় এক ঘণ্টা দেরিতে শুরু হয়। তবে খেলা শুরু হতেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ইংল্যান্ড। মাঝমাঠে আধিপত্য বিস্তার করে দ্রুতগতির আক্রমণে স্বাগতিকদের রক্ষণভাগে একের পর এক চাপ সৃষ্টি করে তারা।
প্রথমার্ধেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় ইংল্যান্ড। জুড বেলিংহাম দুটি দৃষ্টিনন্দন গোল করে দলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। তার গতিময় ফুটবল, নিখুঁত অবস্থান নির্বাচন এবং আক্রমণ পরিচালনার দক্ষতায় বারবার বিপাকে পড়ে মেক্সিকোর রক্ষণ।

বিরতির পর নতুন উদ্যমে মাঠে নামে স্বাগতিকরা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই একটি গোল শোধ করে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় মেক্সিকো। তবে সেই চাপ বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেয়নি ইংল্যান্ড। দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে তৃতীয় গোল করে ব্যবধান আবার বাড়িয়ে নেয় ইউরোপের দলটি।
শেষ দিকে সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে ভর করে আরেকটি গোল আদায় করে নেয় মেক্সিকো। তাতে ম্যাচে নাটকীয়তা ফিরে এলেও শেষ পর্যন্ত সমতায় ফিরতে পারেনি স্বাগতিকরা। নির্ধারিত সময় শেষে ৩-২ গোলের জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড।
এই জয়ের ফলে শেষ আটে ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ হবে ব্রাজিল ও নরওয়ের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী দল। বিশ্বকাপের শিরোপা লড়াইয়ে নিজেদের অন্যতম দাবিদার হিসেবে আরও জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠিত করল সাউথগেটের দল।
অন্যদিকে, ঘরের মাঠে হাজারো সমর্থকের উপস্থিতিতেও বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হলো মেক্সিকোর। শেষ বাঁশি পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেলেও ইংল্যান্ডের সংগঠিত রক্ষণভাগ ভেঙে ম্যাচে ফেরার মতো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি তারা।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এই ম্যাচে জুড বেলিংহামের অসাধারণ পারফরম্যান্স, ইংল্যান্ডের মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণভাগের কার্যকারিতাই জয়ের মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়। নকআউট পর্বে ধারাবাহিক এই পারফরম্যান্স শিরোপার পথে ইংল্যান্ডকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।
