দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ঢাকা, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫: উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের ক্ষেত্রে পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন; পানি সম্পদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেছেন, উন্নয়নের নামে পরিবেশ ও প্রতিবেশ ধ্বংস হলে তার চূড়ান্ত মূল্য সমাজকেই দিতে হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বুধবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ান হেলথ কার্যক্রম: সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ কৌশল’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, রাস্তা বা অবকাঠামো নির্মাণ করা সম্ভব হলেও একটি সুন্দরবন কিংবা একটি নদী নতুন করে সৃষ্টি করা যায় না। জলবায়ু পরিবর্তন ও মহামারির অভিজ্ঞতা আমাদের স্পষ্টভাবে দেখিয়েছে যে প্রকৃতির প্রতিটি উপাদান একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত এবং মানুষ প্রকৃতির মালিক নয়, বরং এর অংশ।
ওয়ান হেলথ কার্যক্রম বাস্তবায়নে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াগত জটিলতা, আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের ঘাটতি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠতে জাতীয় ও জেলা পর্যায়ে কার্যকর পরামর্শক কমিটি গঠন এবং প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে নির্দিষ্ট ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ জরুরি।
তিনি আরও বলেন, জনবল বৃদ্ধি, অনলাইন প্রক্রিয়া সম্প্রসারণ এবং পরিকল্পনা, জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়ানো সম্ভব। অনেক ক্ষেত্রে পাঁচ বছর মেয়াদি প্রকল্পের বড় সময় জমি অধিগ্রহণেই ব্যয় হয়ে যাওয়ায় স্বচ্ছ ও কার্যকর ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।
সেমিনারে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, জনস্বার্থ সুরক্ষায় পরিবেশ, স্বাস্থ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন।
